তবলার বাণীর পরিভাষা

আজক আমাদের আলোচনার বিষয় তবলার বাণীর পরিভাষা

তবলার বাণীর পরিভাষা

 

তবলার বাণীর পরিভাষা

তবলায় বাজে, সেরকম কিছু কিছু বিশেষ ধরনের বোল অর্থাৎ বাণীর বিভিন্ন প্রকার নাম আছে। সেগুলোকে তবলার পরিভাষা বা টেক্‌নিক্যাল নাম বলা যেতে পারে। যেমন, (১) পেস্কার, (২) চলন, (৩) কায়ছ।, (৪) গ‍ ( বিস্তার সহ ), (৫) গৎ (যার বিস্তার নেই ), (৬) উঠান, (৭) সেগামী, (৮) নিকাশ, (৯) ঠেকা, (১০) টুকরা (১১) মুখোড়া (১২) মহড়া, (১৩) ভোড়া (১৪) পারাদার গৎ (ত্রিপল্লী, চৌপল্লী), (১৫) রিণা, (১৬) লগনা (১৭) লগন।

রেশ, (১৮) দ্বিপদী গ‍, (১৯) ত্রিপদী গৎ, (২০) চতুষ্পদী গৎ, (২১) চক্রদার, (২২) ঠেকার বাট (ঠেকার পালট ), (২৩) দখম টুকরা (যে টুকরার তেহাইয়ে ধা মারার পর দম নিতে হয় বা থামতে হয় ), (২৪) বেদম টুকরা (যে টুকরার তেহাইয়ে ধা মারার সময় কোনো রকম বিরাম চলে না ), (২৫) বেগর কিটি ( যে বোলে “কেটে” থাকে না ), (২৬) বিলকুল ভিটে (যে টুকরা বা গৎ-এর বোলে “ভিটে” বাণীর প্রাধান্য থাকে) (27) সte ( যা সঙ্গে সঙ্গে যায় সঙ্গত করবার সময় ), (২৮) দুধারা (যে বোলের মধ্যে দুটি বোল মাছে ), (২৯) ফরদ (৩০) নিরঞ্জ বা (যে বোলে অনাধাতে “ধা”-এর প্রাধান্য) ইত্যাদি ।

 

অপরাপর পারিভাষিক শব্দ, যা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে সর্বদা প্রয়োজন :

(ক) সম— তালের ৪টা গ্রহের মধ্য ‘সম’ গ্রহই আসল। ‘সম’ থেকেই ঠেকা ইত্যাদি ধরতে হয়। ‘সম’ অর্থে বিরাম। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে ‘সম’-ই হ’লো প্রধান ।

(খ) ভাল বা তালি-লয়ের এবং মাত্রার সমষ্টিগত ভাগ ।

(গ) ফাঁক বা অনাথাত বা খালি কোনো আঘাত বা তাল পড়ে না ।

(ঘ) মাত্রা তালের মধ্যে সময় বা কালের মাপ ।

(ঙ) লয় — সঙ্গীতে গতির সমতা রক্ষা করা। লয় সাধারণতঃ তিন প্রকার—ঠায়, মধ্য ও দ্রুত।

(চ) আবর্তন বা আতঙ্গ। — একটা “সম” ঘুরে এসে আর একটা “সম”। অর্থাৎ নির্দিষ্ট তালের ঠেকার সব ক’টা মাত্রা ঘুরে এসে এক ‘সম’ থেকে অন্য ‘সমে’ আসা। ‘উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতেঁ ‘সম’ হলে। আসল। ঠিকমতো ‘সম’ দেখালে সঙ্গীতের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। অনেক উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী আছেন, যারা ‘সম’ ছাপিয়ে যান । এটা কোনো কাজের কথা নয়। এর মধ্যে কোনো সম্মান বৃদ্ধির কারণ নেই। উপরন্তু ‘সম’ ছাপিয়ে গেলে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।

 

তবলার বাণীর পরিভাষা

 

(ছ) পদ্ম—তালের ভাগ ।

(জ) জাতি –তালের বিভাগ ।

Leave a Comment