তবলা এবং বাঁয়ার হস্তপাড়

আজক আমাদের আলোচনার বিষয় তবলা এবং বাঁয়ার হস্তপাড়

তবলা এবং বাঁয়ার হস্তপাড়

 

তবলা এবং বাঁয়ার হস্তপাড়

ছোট বা, তা, ভাক এবং বড় ধা ও ভা:- দক্ষিণ হস্তের তর্জনীর উপরিভাগের সাহায্যে তবলায় এবং বামহস্তের মধ্যমা বা তর্জনীর উপরিভাগের সহায়তায় ধায়ায় এক সঙ্গে আঘাত করলে ছোট “খা” ৰাণীটা বাজবে। তবলার সাদা স্থানটীর সংলগ্ন নিচের দিকে যে সরু পটা থাকে, তাকে কিনারে বা কাণি বলে। মাঝখানে থাকে কালো রঙের গাব। ভবলায় দক্ষিণহস্ত রাখার একটা নিয়ম আছে।

হাতটা এমনভাবে রাখতে হবে, যাতে দক্ষিণহপ্তের মধ্যমাটা ঈষৎ উঁচু হয়ে থাকে। অনামিকা এবং কনিষ্ঠা অঙ্গুলি কখনোই তবলা থেকে উঠবে না বা ফাঁক হয়ে কনিষ্ঠ অঙ্গুলি তবলা থেকে বেরিয়ে আসবে না। অনামিকার অগ্রভাগে ঈষৎ চাপ দিলেই দক্ষিণ হস্তের তর্জনী আপনা থেকেই ঈষৎ উঁচু হয়ে থাকবে । দক্ষিণ হস্তের তর্জনীর মাথা দিয়ে তবলার কাণিতে আঘাত করলে এবং সঙ্গে সঙ্গে বামহস্তের মধ্যমা বা তর্জনীর অগ্রভাগ দিয়ে ( নখ না লাগে) আঘাত করলেই ঐ ছোট “খা” বাণীটা বাজবে।

ছোট ধা-র আওয়াজ কম ও মোলায়েম। কায়দা, রেলা, চলন, পেস্কার প্রভৃতিতে এই ছোট “ধা”-র ব্যবহার খুব বেশী হয়। ছোট “ত৷” তবলায় তুলতে হলে উপরি-উক্ত পদ্ধতিতে তুলতে হবে, শুধু এতে বাঁয়ার সহযোগিতার প্রয়োজন হয় না। ছোট “ভাক” তবলার হাতে তর্জনীর সাহায্যে শুধু কাণিতে বাজবে । এবার বড় “ধা” এবং বড় “তা”-র কথায় আসছি। বড় “বা” এবং বড় “তা” সাধারণত: “গৎ”, “গৎ-পরণ”, “পাল্লাদার-গৎ”, “চক্রদার” এবং “টুকরাছিতে” প্রয়োজন হয়।

বড় “খা” তবলায় তুলতে হলে উপরি-উক্ত প্রণালীতে তুলতে হবে। শুধু দক্ষিণ হস্তের ( তবলার হাত ) তর্জনীর অগ্রভাগের স্থানে তর্জনীর দ্বিতীয় পর্বের উপর দিয়ে আঘাত করতে হয় । এছাড়া দক্ষিণ হস্তের অনামিকা এবং তর্জনীর অগ্রভাগের সামান্য একটু স্পর্শে ৰড় ‘খা’ তবলায় শোনা যায়। বড় “ভা”-এর ক্ষেত্রে ঐ একই প্রণালী । শুধু বাঁয়া বাজবে না । তবলায় “না” এবং “মা-মা” ও “মা-না-না-না” বাজাতে হলে, ছোট “ভা” যেমন করে তুলতে হয়, ঠিক সেই ভাবেই তুলতে হবে ।

থিন, ধী, ধেন, যেন, ভিন্ন, যে, ভেন, ঘি, ছোট “ধিন” ও ছোট “তিন” : দক্ষিণ হস্তের তর্জনীর দ্বিতীয় পর্বের সংস্পর্শে তবলায় এবং বাম হস্তের তর্জনী বা মধ্যমার অগ্রভাগের সাহায্যে বাঁয়ার উপর একসঙ্গে আঘাত করলে “নি” বা “দী” এবং “খেন” বাণী বাজবে। “ডিম” ও “ডেন” বাজাতে হলে তবলার হাতেই ৰাজাতে হবে এবং সেক্ষেত্রে ৰায়ায় কোন আঘাত করা হবে না । অর্থাৎ বাঁয়া বাজবে না ।

তবলার হাতে শুধু বাঙ্গাতে হবে—যেমন বড় “ও।” বাজানো হয়। “ঘে” বা “খি” বাজৰে শুধু বাঁয়ায়- মধ্যমা বা তর্জনীর অগ্রভাগের সাহায্যে। “খেন” ও “খিন বাজাবার সময় বাঁয়ার রেশ টানতে হবে। শুধু “গুপ” করে একটা আওয়াজ বার করলেই চলবে না। “খে” বাণীটাও ৰাজৰে ঐ ভাবে । ছোট “যিন” বাজবে তবলার হাতে তর্জনীর অগ্রভাগের সাহায্যে এবং বায়ার হাতে মধ্যমা বা তর্জনীর অগ্রভাগের সাহায্যে দক্ষিণ হপ্তটা তখন তবলার ডানদিকে ঈষৎ ঘুরিয়ে ৰাজাতে হবে।

এবং তখন দক্ষিণ হস্তের তর্জনীর অগ্রভাগ তবলার গাবের কিনারায় স্পর্শ করে যাবে। যে, ডেরেকেটে, ভেরেকেটে, ভিট্‌ িবা ভিরটি বড় তাক্, কৎ, কা, ভাগে, যাগে ও দেখে :— তবলায় দক্ষিণ হস্তের তর্জনীর অগ্রভাগের সাহায্যে গাবের মধ্যস্থলে থা কিনারায় এবং সেই সঙ্গে বাঁয়ার উপর বাম হস্তের তর্জনী বা মধ্যমার দ্বারা আঘাত করলে “ধে” বাণীটা উৎপন্ন হয়। দক্ষিণ হস্তের মধ্যমার সাহায্যে তবলার গাবের উপরিভাগে ( মধ্যস্থলে ) আঘাত করলে “তে” বাণী উৎপন্ন হয়।

দক্ষিণ হস্তের তর্জনীর দ্বারা তবলার গাবের উপরে ( মধ্যস্থলে ) আঘাত করলে “রে” বা “টে” বাণী উৎপন্ন হয়। বামহত্ত্বের সাহায্যে বাঁয়ায় মোড়া অর্থাৎ বামহস্তের চেটো খুলে দিয়ে এবং বাঁয়ার গাব স্পর্শ করে আঘাত করলে “কে” বা “ক” বা “কা” বাণী উৎপন্ন হয়। ঐভাবে “ডেটেকেটে” বাণীটাও উৎপন্ন হবে। “ভেরকিট” বাজাতে হলে “ভেরে” বা “ভেটে ঘে” যেভাবে বাজাবার পদ্ধতি উপরে দেখিয়েছি, সেই ভাবেই বাজবে। “ভিরটি” ও তাই।

“ভাগে” বাণীটা উৎপন্ন হয় তবলার হাতে, তর্জনীর দ্বারা তবলার কিনারায় আঘাত করলে। এর সঙ্গে বায়ার হাতের ( বাম ) মধ্যমা বা তর্জনীর অগ্রভাগ দিয়েও আঘাত করতে হবে। “ৰাগে” বাণীট। উৎপন্ন করতে গেলে উপরি-উক্ত প্রণালীতে তবলা এবং বাঁয়ায় যুগপৎ শব্দ করতে হবে। “গে” বাজবে, যেমন “ঘে” বাণীটা বাজাতে হয়। বড় “ডাক” উৎপন্ন করতে গেলে শুধুমাত্র দক্ষিণ হস্তের পাঁচটী আঙুল সংলগ্ন করে তলার গাবের উপর আঘাত করা দরকার। “ঘেঘে” বাণীটী বাজাতে হ’লে বায়ার হাতে বাজাতে হয়। তখন প্রথমে ব্যবহার করা হবে বামহস্তের তর্জনী এবং পরেই ঐ হস্তেরই মধ্যমা ।

খেয়েধেরে, ভেরেভেরে, ভেটেডেটে, খেটেখেটে, ক্রো, ভেটেকডা, গঞ্জীখেনে, ক্রেখিল : –

“ ধেরেধেরে” ৰাণীগুলি বাজাতে হলে তবলা এবং বায়ার একসঙ্গে ব্যবহার হয়। দক্ষিণ হস্ত (চেটো) তবলার গাবের উপর দিয়ে আস্তে আস্তে সর্পিল গতিতে ঘোরাতে ঘোরাতে একেবারে তবলার কিনারার ( উপর দিকে) নিয়ে যেতে হয়। এর সঙ্গে বায়ার সাহায্য দরকার ৷ মাত্র একটা গুগোর আওয়াজ দরকার। গুপো বলে বায়ার খোলা আওয়াজকে । এখানে ২টা খেরেধেরে আছে। ৪টা “ধেরেধেরে”-র ক্ষেত্রেও মাত্র একটা বাঁয়ার গুপোর কাজ হবে।

“ ভেরেত্তেরে” বাণীটা বাজাতে গেলে ধেরেথেরে-র মতোই হাতে বাজাতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে বাঁয়া ৰাজবে না। ছোট “খেরেধেরে” বাজবে তবলার গাবের মাঝখানে দক্ষিণ হস্তের চারটী-যুক্ত আঙুলের সাহায্যে। একটা মাত্র বায়ার গুপো ব্যবহৃত হবে। “ভেরেত্তেরে” বাণীটাও দু’ভাবে বাজানো যায়। “ ধেরেধেরে”-র মতো, —শুধু বাঁয়া বাজবে না । ছোট “ভেরেত্তেরে” বা “ডেটেডেটে” ভবলার হাতে শুধু তবলায়ই বাজবে ।

তৰলার গাবে তবলার হাতে “তাক” তারপর তবলার হাতের তর্জনীর অগ্রভাগ দিয়ে গাবেই আঘাত করতে হবে। তখন বাজবে “টে” বাণীটা। হু-আঙুলেও “ডেরেকেটে” বা “ডেটেকেটে” ৰাজানো হয়। তখন তবলার গাবের উপর দক্ষিণ হস্তের প্রথমে মধ্যমা, পরে তর্জনীর আঘাত, পরে ধায়ায় বামহত্ত্বের সাহায্যে “কে” তারপর আবার মধ্যমার সাহায্যে তবলার গাবে আঘাত ৷ এই ভাবে ছোট “ডেরেকেটে” বা “ডেটেকেটে” বাজবে।

“ খেটেখেটে” বাজবে তবলায় “ ধেরেধেরে”-র মতো। ছোট “খেরেধেরে” যেভাবে বাজানো হয়, সেই ভাবেই বাজবে। “কেথা” অর্থাৎ “কেটে+খা”। বাঁয়ায় “কে” তবলায় “টে” তারপর কাণি বা সুরের বা বড় “খা”। “কা” = বাঁয়ায় “কৎ” তবলায় সুরে “ভা” বা কাণিতে ছোট ভ৷” । “গদী ঘেনে” = বাঁয়ার গুপোয় “গ” তবলায় দক্ষিণ হস্তের যুক্ত আঙুলে তবলার খোলা জায়গায় “দীন” বা “ধিন”।

তারপর বায়ায় গুপোতে “ঘে” এবং পরেই তবলায়, তবলার গাবে “নে”। “নে” বাজাতে হলে, দক্ষিণ হস্তের দ্বারা “ডাক”-এর মতোই ভবলার গাবে আঘাত করতে হবে। “ক্রেথিম” = “কেটে + ধিন” । “কেটে” ও “থিম” যে পদ্ধতিতে বাজাতে হবে, তা পুর্বেই উল্লেখ করেছি পৃথকভাবে বড় থুৱাকডা, ছোট থুম্নাকতা, ভিৎ, ভেৎ, ভিটু, কিট্‌, ক্রেধানে, ধানে, ধাড়ি, ধাগেলে, ধুমাকেটে, খেনাতেটে, খেনে, খেনে, ভেনে, কেনে, খেড়েমাগ, জেনেভাগ, ভিগনাগ, ঘিনভেড়ান, বা ঘেনভেলান :

“বড় থুপ্পাকতা” = তবলার হাতে ( ডান হাতে ) — “দীন”-এর মতো প্রথমে, পরে তর্জনীর অগ্রভাগের সাহায্যে “না”, তারপর বাঁয়ায় কৎ ( ক ) এবং পরে তবলায় ( ডান হাতের ) তর্জনীর সাহায্যে “ভা”। “ছোট থুন্নাকতা ” = তবলায় ডান হাতের তর্জনীর সাহায্যে সুরে “খুন” এবং পরে ঐ তর্জনীর সাহায্যে তবলার কাণিতে “না”। “ন্তিৎ” = তবলার গাবের মধ্যভাগে ডান হাতের মধ্যমার সাহায্যে আঘাত করলে এই বাণী বাজবে।

“তে” = তবলার গাবের নিচের কিনারায় ডানহাতের চারিটী আঙুল যুক্ত করে আঘাত করলে “তেৎ” বাণী উৎপন্ন হবে । “কিট্‌” বাণীটাও ঐভাবে উৎপন্ন হবে। “ভি”ও ঐ প্রকার। “ক্রেধানে” = কেটে + ধানে । বাঁয়ায় “কৎ”, তবলার গাবে “টে”, পরে সুরের “খা” তবলায় এবং এর পরে তবলায় গাবের উপরে “নে”। “খা-নে”= তবলায় সুরে “ধা” ও গাৰে “মে”। “ধাত্তি”=বা + তি = তবলায় ডান হাতের তর্জনীর সাহায্যে কিনারায় আঘাত করতে হবে।

সঙ্গে সঙ্গে বাঁয়ায় বাম হাতের মধ্যমার সাহায্যে গুপোর কাজ। একসঙ্গে তবলা ও বাঁয়ায় ঐভাবে আঘাত করলে “খ” বাণীটী উত্থিত হবে। “তি” = ডানহাতের মধ্যমার দ্বারা তবলার গাবে আঘাত করতে হবে। “স্বাগেনে” =ধা + গে + নে। তবলায় “খা”, বাঁয়ায় “গে” ও তবলার গাবে ডানহাতের মধ্যমার আঘাতে “নে”। “ভাগেনে” বাজাতে হ’লে প্রথমে শুধু তবলার সুরে ডানহাতের দ্বারা বড় “ডা” পরে আগের মতোই হাত ফেলার পদ্ধতি। “ধুমাকেটে” = ঘেনা + ভেটে। “ঘোডেটে” বাজাতে হলে যেমনভাবে তবলা ও বাঁয়ায় হাত ফেলা দরকার, সেইভাবে হাত ফেলতে হবে ।

“খেলে”–ধে+নে। তবলা ও ধাঁয়ার সংযোগে “ধে”, পরে শুধু তবলায় “নে”। “তেনে” তবলার গাবে তেটের মতো । ভরলার কিনারায় “নে” ও “গেনে বাজে । তখন সূক্ষ্ম হাত দরকার হয়। “থেঃণ” ঘে+নে। বাঁয়ার গুলোতে “খে” এবং তবলার গাবে “নে”। “কেন” কে+নে। বাঁয়ায় “ক” (কং) এবং তবলার গাবে “নে” । “খেড়েনাগ” যে + ড়ে + না। ধাঁয়ার গুরপাতে “খে”, তবলার গাবে ডানহাতের যুক্ত মাঙ্গুলে “ড়ে” এবং পরে আবার তবলার কাণিতে “না”।

“দেনে ভাগ” = দে + নে + তা তলার ও বায়ার একত্র সংযোগে বাজবে। ডানহাতের তর্জনীর আঘাত প্রথমে পড়বে তবলার গাবের কিনারায়, পরে ডানহাতের মধ্যমা ও অনামিকা একযোগে পড়বে তবলার গাবে। এরপর ছোট “ভা”। ভিগলাগ = তি + না। ছোট থুন্নার মতো বাজবে। “খিন ভেড়ান” = ঘিন্ + তে + না । “ঘিন” বাজবে বাঁয়ার গুপোতে। “তে” বাজবে তবলার গাবে ৷ “ড়া” বাজবে তবলার কাণিতে। “নে” বাজবে তবলার গাবে পুরো হাতে।

“ঘেতেলান = “ঘিতেড়ান”, = “খিন নেড়ান” বা “খেন নেড়ানে”। “ক্রাণ” বা “কেড়ান”, “ঘ্রাণ” বা ঘেড়ান, “ধাগৎ” “দীককিট”, “ডাকিটি ধাড়” বা “তাকিটি ধা”, “গদেৎ”, “তাড়”, “দিং মেড়ান” : –“ক্রাণ” – কেড়ান । তবলা ও বাঁয়ার একসঙ্গে খোলা আঘাতে (কৎ+ বড় তা) ঐ বাণী বাজবে। “জাণ”=“খেড়ান”। ঘে + বড় তা। বাঁয়ায় “খে” এবং তবলায় সুরে “ভা”। “স্বাগৎ” “ধা” + “গে” ( জোরে = আঘাত )। “স্বীকৃট্‌”ি = “তাক” + “ঘে” । তবলার গাবে সজোরে “তাক্” বাজিয়ে পরে (সঙ্গে সঙ্গে ) বাঁয়ার গুপোর সাহায্যে “ঘে” বাজাতে হবে। “ভাকিটি ধাড়” বা “ডাকিটি ৰা”।

 

তবলা এবং বাঁয়ার হস্তপাড়

 

“তাক” + “কৎ” + তাক” ভবলার সুরে “ধা” ( বড় “ধা” )। “গৎে” = “খে” + “ভাক” + বড় “গ”। “তাড়” = তবলায় বড় বা সুরের “ভা”। “জিং নেড়ানে” তবলার গাবে “দিং”, গাবে নে এবং ড়ানে। এর সঙ্গে বায়াও বাজবে ।

Leave a Comment