আজক আমাদের আলোচনার বিষয় তাল ও মাত্রাসহ বিভিন্ন তালের ঠেকা
তাল ও মাত্রাসহ বিভিন্ন তালের ঠেকা

তাল ও মাত্রাসহ বিভিন্ন ভালের ঠেকা
বিভিন্ন তালের ঠেকা লিপিবদ্ধ করবার আগে, এখানে মাত্রা এবং ঠেকা সম্বন্ধে কিছু বলে নেওয়া ভালো। আগের অধ্যায়ের প্রথমেই তাল-লয় সম্বন্ধে আলোচনা করেছি। তলার বোল ইত্যাদি পড়বার সময় বা লেখবার সময় কোন্ বাণীর কতটুকু কাল স্থায়ী হয়, সেটা প্রকাশ করবার জন্য ৰাণীর মাথায় যে চিহ্ন থাকে লম্বাকারে ‘দাঁড়ির’ মতো, তাই হলো মাত্রা ।
মাত্রার চিহ্ন তিন রকম। যেমন— ‘চন্দ্রবিন্দু’ চিহ্নিত (~) মাত্রার তাৎপর্য হলো—আধাযাত্রা। গুণের চিহ্নিত ( x ) মাত্রার তাৎপর্য হলো—সিকিমাত্রা। আর মাথায় ‘দাঁড়ি’ চিহ্নিত (।) মাত্রার তাৎপর্য হলো একমাত্রা । এছাড়া আর একটা মাত্ৰা – সঙ্কেতও আছে। সেটা বোলের উচ্চারণের আগে পড়ে। আড়, বড়াড় এবং কুয়াড় বোলের মাত্রা বসাবার সময় এরকম হয়। তখন মাত্রাটা আগে দিয়ে বোল পড়তে হয়। তবলার বা পাখোয়াজের বোল পড়া প্রত্যেকেরই প্রথম থেকে অভ্যাস করা উচিত।
কারণ ঠিক ঠিক ঝোঁক এবং ছন্দের সঙ্গে বোল পড়তে না পারলে, তবলায়ও ৰোল ঠিকমতো উঠবে না । বিলম্বিত, মধ্যগতি, দ্রুত এবং অধিকতর দ্রুত লয়ে বোল পড়া অভ্যাস করা দরকার । একথা বলাই বাহুল্য যে, জিবের আড় না ভাঙলে তবলার বোল সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে পড়া যায় না। যারা তোতলা, তাঁদের পক্ষে এটা অসম্ভব ।এখন ঠেকার সম্বন্ধে কিছু বলছি। সাধারণতঃ যা সামনে রাখা যায়, তাই ঠেকা ।
আর এক কথায় বলা যায় অবলম্বন। যাকে অবলম্বন করে গায়ক বাদক তালে গান গাইতে পারেন, বাজনা বাজাতে পারেন, তাকেও ঠেকা বলা যায়। ঠেকার বাণী সাধারণতঃ নির্দিষ্ট তালের মাত্রা অনুযায়ী এক-একটা করে হয়। অবশ্য কায়দার ঠেকা বলে একটা ঠেকা তলায় বাজে ৷ সে ঠেকার বাণীগুলি এক-একটা মাত্রার অন্তর্গত হয়। একটা মাত্রার মধ্যে অনেকগুলি অণুবাণী থাকে।
এইরূপ ঠেকার সঙ্গে গান গাইলে বা সেতার- সরোদ বাজালে অনেক সময়ে শিল্পীকে বেকায়দায় ফেলে । শিল্পীদের বেকায়দায় ফেলা কোনো শিল্পীরই উচিত না । তবে হ্যাঁ, একক ( লহরা ) তবলা বাজাবার সময় তবলাশিল্পী তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী দূরূহ বোলবাণী ব্যবহার করতে অবশ্যই পারেন । তবলায় প্রচলিত ঠেকাসমূহ বিভিন্ন ‘পদ’-এ বিভক্ত। তালের চালকে ‘পদ’ বা ‘পদক্ষেপ’ বলা হয়৷
নাট্যশাস্ত্রে মুনি ভরত এই পদকে ‘অঙ্গ’ ৰলেছেন। সমপদী ও বিষমপী, এই দুটি ভাগে তবলায় প্রচলিত ঠেকাগুলি ভাগ করা হয়েছে। যে তালের ভাগ ৰা অংশ সমান মাত্রায় গঠিত, তাহাকে বলা হয় সমপদী। যে ঠেকার মাত্রার ভাগ সমান, সেই ঠেকাকে বলা হয় সমপদী ঠেকা। ত্রিতাল ( ১৬ মাত্রা ), একভাল (১২ মাত্রা), আড়াঠেকা ( ১৬ মাত্রা ), তিলোত্মাড়া ( ১৬ মাত্রা ), মধ্যমান ( ১৬ মাত্রা ), ঠুংরী ( ১৬ বা ৮ মাত্রা), প্রভৃতি।
বিসমপদী ঠেকার মাত্রা সমান নয়। যেমন : আড়া চৌতালা ( ১৪ মাত্রা ), যৎ ( দীপচন্দ্রিকা ) ( ১৪ মাত্রা ), ধামার (১৪ মাত্রা ), ঝুমরা ( ১৪ মাত্রা ) প্রভৃতি ।
নিম্নে সমপদী ও বিসমপদী তালের ঠেকার বিশদ বিবরণ দেওয়া হলো :-
(১) সমপদী।
(২) বিসমপদী।
(১) সমপদী তালের ঠেকাগুলিকে চতুর্মাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
(ক) ত্রিভান ১৬ মাত্রা (চতুর্মাত্রিক )
(খ) আড়াঠেকা
(গ) তিলোজড়া
(ঘ) মধ্যমান

(ঙ) কাহারৰা চৰা ৪
(চ) ঠুংরী ১৬ বা ৮
(ছ) যৎ ৮
(জ) একতালা ১২
(ঝ) চৌভালা ১২
(ঞ) দারা ৬
(২) বিসমপদী তালের ঠেকার মাত্রার ভাগ সমান নয়। এই ঠেকাগুলি মিশ্রজাতির ঠেকার অন্তর্গত।
