আজক আমাদের আলোচনার বিষয় তবলায় উত্থিত বোল বাণী বা শব্দ
তবলায় উত্থিত বোল বাণী বা শব্দ

তবলার বোল-বাণী কাল্পনিক। এর কোন অর্থ নেই । তবু, একথা স্বীকার করতে হবে যে, এজাতীয় আদি বোল বাণী হলো সংখ্যায় বারোটা । যথা : –

এই ১২টা আদি বাণী থেকে অসংখ্য বোলের সৃষ্টি হয়েছে।
সঙ্গীতশাস্ত্রে একথা লেখে- ‘পরা’ ‘পান্তা’, ‘মধ্যমা’ ও ‘বৈঘরী’—এই চার রকম শব্দ সঙ্গীত বিদ্যায় প্রয়োজন । সঙ্গীত বিদ্যা ‘বর্ণাত্মক ও স্বরাত্মক’ উভয় সংযুক্ত। পরা, পশ্যন্তী, মধ্যমা আর বৈশ্বরী ঐ ছটো নাদের অন্তর্গত। নাদ ব্রহ্ম এবং এই নাদই হলো সঙ্গীতের প্রাণকেন্দ্র। ঐ নাদকে দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে ( ‘বর্ণাত্মক’ ও ‘স্বরাত্মক’)। কণ্ঠ, তালু প্রভৃতির অভিঘাত-জনিত নাদ বা শব্দকে ‘বর্ণাত্মক’ নাদ বা শব্দ বলে।
যেমন পুস্তকাদি পাঠ করা। আর বস্তুতে অন্য বস্তুর অভিঘাতে যে নাদ বা শব্দ উৎপন্ন হয়, তাকে বলে ‘স্বরাত্মক’। কাজেই দেখা যাচ্ছে, সঙ্গীতবিষ্ঠায় পারদর্শিতা লাভ করতে হলে, সঙ্গীত সম্বন্ধে পুস্তকাদি অধ্যয়ন করাও বিশেষ প্রয়োজন। বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে স্বর (শব্দ) যোগে সাধনা করে যন্ত্রের সঙ্গে ঐক্য বা সমতা স্থাপন করলে বা স্বরের সঙ্গে একাত্ম হয়ে মিলে গেলে তাকে স্বরাত্মক সাধনায় সিদ্ধ বলা হয়। এই হলো আমাদের সঙ্গীত শাস্ত্রের কথা ৷
আমাদের দেশে বহু খ্যাতিমান তবলার ওস্তাদ জন্মেছেন, যারা ঐ ছুটি নাকে একনিষ্ঠভাবে সাধনা ক’রে তবলা বাদ্যযন্ত্রের এক গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন । বর্তমানেও এমন সব খ্যাতিমান ওস্তাদ আছেন, যাঁরা তাঁদের পূর্বপুরুষদের সাধনার পথকে অনুসরণ ক’রে, তবলার ক্রিরাত্মক এবং ঔপপত্তিক ধারাকে অধিকতর উজ্জ্বল করে তুলেছেন। এই ক্রিয়াত্মক ভূমিকার মধ্যে আছে – তবলার জন্মই নির্দিষ্ট বহুসংখ্যক ‘বাণী’ বা বর্ণ।
তবলার নূতন বোল সৃষ্টি করতে গেলে সেই নির্দিষ্ট বাণী বা বর্ণের সহায়তা অপরিহার্য। পাখোয়াজেরও বহু বাণী তবলায় গ্রহণ করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে তবলারই উন্নত ধরনের বাদনশৈলীর জন্ম। নিম্নে কতকগুলি বাণী বা বর্ণ লিপিবদ্ধ করছি, যেগুলি তবলার হাতে বাজাতে অপরিহার্য। অর্থাৎ এইগুলি একক বা পৃথক পৃথক ভাবে তবলার বিভিন্ন বোলের মধ্যে থাকেই :-
(১) ধা, (২) ধিন, (৩) তা, (৪) ভিন, (৫) না, (৬) ভেরে, (৭) ভিটে, (৮) ডেরেকেটে, (১) ভেটে, (১০) ভিটে, (১১) ভিকিট্, (১২) থে, (১৩) খি, (১৪) জ্বিন, (১৫) ছিংমাড়ানে, (১৬) খেম্ মেড়ালে, (১৭) খেল্ তেমান, (১৮) ঘে ভেগানে, (১৯) দেৎ, (২০) কানে, (২১) কঙ্কাল, (২২) দেৎ কত্তানে, ২৩) তাবড় বা, (২৪) দীংখড় বা, (২৫) তাকিটি ধা, (২৫) ভার্কেটে, (২৭) তাকেটে ধা, (২৮) খেম্, (২১) দেরেখেরে, (৩০) ধেরে ধেরে কেটেস্তাক,
(৩১) খুন (12) খুন মা, (৩৩) দিন্ না, (৩৪) কেটেভাক, (৩৫) তাক, (৩৬) ভাকক্রাণ, (৩৭) কাণ, (৩৮) ঘেড়ান্ বা ঘ্রাণ (৩১) কেড়ান বা ক্রাশ, (৪০) ধাগে, (৪১) ভাগে, (৪২) নাগে, (৪৩) গেটে, (৪৪) খেটেখেটে, (৪৫) খেটেডেটে, (৪৬) গীতা, (87) গেছেৎওঁাড়, (৪৮) মাংখড়, (৪৯) গদীখেনে (৫০) কতা, (৫১) ভেটে ভ’, (৫২) কভাতা, (৫৩) কস্তাক, (৫৪) স্বীকৃট্,ি (৫৫) ভাগা, (৫৬) কৎ, (৫৭) ধেরে- খেয়ে কৎ,
(৫৮) তাকিটি তাকিটি কিট্, (৫১) দুরকেটে ডাক, (৬০) দুম্বাকেটে, (৬১) গদীভেটে, (৬২) ভেৎ, (৬৩) জিৎ, (৬৪) কেধি, (৬৫) খেড়ে, (৬৬) ধাধিন ধা (৬৭) কা, (৬৮) ধিনা, (৫৯) গেদেৎ ভাঁড়, (9) যাগ, (৭১) ধাড়, (92) ধাগেলে, (৭৩) যাগে মা, (৭৪) জাতি, (12) ভাঙি, (৭৬) ঘেনা (৭৭) খিনা, (৭৮) তিনা, (৭১) কিনা থাকেনা, (৮০) কেথ1, (৮১) ক্রেধান্তেটে, (৮২) কেড়েরাগ ধা কেড়ে নাক, (৮৩) ডিগনাগ,
(৮৪) দেভোগ, (৮৫) জেনেভাক, (৮৬), ভিরি ধা. (৮৭) ভিরি বা ভেরে, (৮৮) ধানে, যা বা- আলে, (৮১) ধাশ্, (১০) খেটে, (৯১) কম্বেটে, (১২) তাকেড়েলাগ, (১৩) মাতেটে, (১৪) বীজ লাগেজেটে, (৯৫) কেধাডেটে, ভাগেন্তেটে, (১৬) কেটেভাক খুন, (৯৭) কেটেভাক খুন তা ভেরেকেটে ভাস্ক, (১৮) মাগড়, (১১) তাখেয়ে, ( ১০০ ) খো বা দ্বো, (১০১) ক্রেধেৎ, (১০২) খেরায়ে, (১০০) ভেরেয়ে,
(১০৪) ভাস্ (১০৫) তা আনে, (১০৬) ধেরেধেরে কৎ, (১০৭) খাগ । খোক্, (১০৮) ঘেঘে, (১০৯) কেকে, (১১০) ভাৎ, (১১১) ভাষা, (১১২) ছিড়িয়াক, (১১৩) ংিরড় ধ1, (১১৪) ধাদীংরড়, (১১৫) ধাত্তেৎ, (১১৫) ভাঙে, (১১৭) খেলেনে, (১১৮) ছেলে, (১১১) मम गान, (১২০) ক্রেরেৎ, (১২১) ভেনে, (১২২) কেনে, (১২৩) নাগেনা বা নাগেলে, (১২৪) কি.মিদ, (১২৫) তাকিটি ধাৰা ভাকিটি খাড়, (১২৬) ত্রেকে, (১২৭ ) ভাঁপা,
(১২৮) মাগড়, (১২৯) কতাক, যেতা, (১৩০) ভিক্ ধেমান (১৩১) ধিমাগ, (১৩২) ভিনাগ, (১০০) জেল জেন, (১৩৪) নাকেটে নাকেটে, (১৩৫) নাগদেশ, (১৩৬) কেটেভাক তাঁ, (১৩৭ ) ভাষা, (১৩৮) কেড়ে খুন म.. (১৩৯) খেলেখেনে, (১৪০) ডেকে কেনে, (১৪১) কতেটে ভাগেনে, (১৪২) খোনে খানে ধা, (১৪৩) থাকেটে ডাকষিন, (১৪৪) কভাভিন, (১৪৫) ভিন্ন, তা কেনেডিন, (১৪৬) যোগ যানি না, (১৪৭) ত্রেকে ৎে, (১৪৮) ডেরেকেটে হেৎ, (১৪৯) দেৎ দেৎ ডেকেটে ডাক,
(১৫০) কেড়েছেও জ্বা, (১৫১) কেড়ে গঙ্গীখেলে, (১৫২) ত্রেকে ভেৎ বা ডেরেকেটে ডেৎ, (১৫৩) ঘি-ভেষা, (১৫৪ ) ভিভাক ধিন, (১৫৫) বিধিমা, (১৫৬) নাগেভিটে জ্ঞাণ, (১৫৭) ভিটে ক্রাশ, (১৫৮) কম্বি কেড়েনাক, (১৫৯) থাডেরেকেটে খেতেটে, (১৬০) ধা ডেরেকেটে ডাক ধেয়েধেরে কেটেডাক, (১৬১) থাভেরেকেটে ধেরে ধেরেধেরে খেড়েমাগ, (১৬২) ঘেড়েমাগ দেনেভাক, (১৬৩) ধেরেধেরে কৎ, (১৬৪) কৎ ধেরেধেরে কৎ, (১৬৫) কৎ কৎ ধেরে ধেরেকেৎ, (১৬৬) ভষা, (১৬৭) ঘোড় ঘাড় ধা, (১৬৮) ঘেড়েনাগ খেনেভাগ, (১৬৯) তাক্ থু-নাকেটে তাক, (১৭০) ভাষা, ইত্যাদি ।
তবলার উপরি-উক্ত বাণীগুলি ভবলিয়াদের পক্ষে খুবই দরকার। এছাড়া আরো বহু বাণী আছে। সেসব এখানে লিপিবদ্ধ করা চলে না। করতে গেলে তিন খণ্ডে একখানা পুস্তক রচনা করতে হয়। সেটা যখন সম্ভব নয়, সেইজন্য এই বাণী নিয়ে আর অগ্রসর হওয়া সমীচীন নয়। আর উপরি-উক্ত সমস্ত বাণীর যদি হস্তপাড় এখানে দেখাতে হয়, তাহলেও এরজন্য শতাধিক পৃষ্ঠা লাগবে। কাজে কাজেই, সেটাও এখানে সম্ভব নয়।
তবে যেসব বাণীর ‘হস্তপাড়’ তবলা শিক্ষার্থীর পক্ষে অপরিহার্য, সেইগুলি বিবেচনা করে এখানে যথাসাধ্য লিপিবদ্ধ করছি। ভাষার সাহায্যে তবলা-পাখোয়াজের বোল- বাণীর ছন্দ ঠিকঠিক বোঝানো দুরূহ ব্যাপার । বিশেষ করে সুকঠিন চৌপল্লী এবং চক্রদার বোলগুলি এই গণ্ডীর মধ্যে পড়ে । তবলা বাজানোর ছন্দ শুনে সোজা কিছু কিছু বোল- বাণী নকল করা যায়। কিন্তু নানাপ্রকার ছন্দ মিলিয়ে যেসব বোল আছে, তা শুনে নকল করা একরকম অসম্ভব ।
এইজন্য পুস্তকের সঙ্গে সঙ্গে গুরুরও প্রয়োজন হয় বলেই আমার ধারণা । আর যাঁরা সুদীর্ঘ কাল ধরে তবলা বাজিয়ে আসছেন, তাঁদের পক্ষে নূতনত্বের সন্ধানে এই বিষয়ে পুস্তক পড়া নিতান্তই দরকার ।

যাহ’ক, তবলার প্রথম শিক্ষার্থীদের জন্য যতটুকু দরকার, ততটুকুই এখানে উল্লেখ করছি। ভাষার মাধ্যমে তবলার ‘হপ্তপাড়’ নির্ণয় করা রীতিমত কঠিন কাজ। তবু যথাসাধ্য প্রচেষ্টা করছি।
